Thursday, September 22, 2016

4 মুদ্রা (বহুবিধ)

মুদ্রা (বহুবিধ)


মোদনাৎ সর্ব্বদেবানাং দ্রাবণাৎ পাপসম্ভতেঃ।
তস্মান্মুদ্রেতি বিখ্যাতা মুনিভিস্তন্ত্রবেদিভিঃ।।
মুদ্রা সকল দেবগণের আমোদ বর্দ্ধন করে এবং সমস্ত পাপ বিনাশ করে, এইজন্য মুণিগণ ইহাকে মুদ্রা নামে আখ্যাত করিয়াছেন।
হস্ত্যাভ্যামঞ্জলিং বন্ধানামিকামূলপর্ব্বণোঃ।
অঙ্গুষ্ঠৌ নিঃক্ষিপেৎ সেয়ং মুদ্রা আবাহনী স্মৃতা।।১।।
আবাহনীমুদ্রা - উভয়হস্তের অঞ্জলী যোজনা করিয়া উভয়কে হাতের অনামিকার মূলপর্ব্বে অঙ্গুষ্ঠদ্বয় আবদ্ধ করিলে আবাহনীমুদ্রা হয়।।১।।
অধোমুখীতিচেৎ স্যাৎ স্থাপনী মৃদ্রিকা স্মৃতা।।২।।
স্থাপনীমুদ্রা - উক্ত আবাহনীমুদ্রাকৃত উভয় হস্তাঙ্গুলী অধোমুখ করিলেই স্থাপনীমুদ্রা হয়।।২।।
উচ্ছ্রিতাঙ্গুষ্ঠমুষ্ট্যোশ্চ সংযোগাৎ সন্নিধাপনী।।৩।।
সন্নিধাপনীমুদ্রা - উভয়হস্ত মুষ্টিবদ্ধ করিয়া অঙ্গুষ্ঠদ্বয় উন্নত করিরা সংযুক্ত করিলে সন্নিধাপনীমুদ্রা হয়।।৩।।
অন্তঃপ্রবেশিতাঙ্গুষ্ঠা সৈব সংবোধিনীমতা।।৪।।
সংবোধনীমুদ্রা - উভয়হস্তের অঙ্গুষ্ঠদ্বয় অন্তঃপ্রবিষ্ট করিয়া উভয় হস্ত মুষ্টিবদ্ধ করলেই সংবোধনীমুদ্রা হয়।।৪।।
উত্তানমুষ্টিযুগলা সংমুখীকরণী মতা।।৫।।
সম্মুখীকরণীমুদ্রা - সংবোধনীমুদ্রাকৃত মুষ্টিদ্বয় চিৎ করিলে তাহাকে সম্মুখীকরণীমুদ্রা কহে।।৫।।
দেবতাঙ্গে ষড়ঙ্গানাং ন্যাসঃ স্যাৎ সকলীকৃতিঃ।।৬।।
সকলীকরণমুদ্রা - দেবতার অঙ্গে ষড়ঙ্গন্যাসকে সকলীকরণমুদ্রা বলে।।৬।।
সব্যহন্তকৃতা মুষ্টির্দীর্ঘাধোমুখতর্জ্জনী।
অবগুণ্ঠনমুদ্রেয়মভিতো ভ্রামিতা মতা।।৭।।
অবগুণ্ঠনমুদ্রা - বামহস্তে মুষ্টিবন্ধনপূর্ব্বক তর্জনীকে দীর্ঘভাবে প্রসারিত করিয়া আধোমুখে ভ্রামিত করিলে অবগুণ্ঠনমুদ্রা হয়।।৭।।
অন্যোন্যাভিমুখাশ্লিষ্টা কনিষ্ঠানামিকা কুর্ব্যাৎ তয়া সাধকসত্তমঃ।।৮।।
ধেনুমুদ্রা - উভয় হস্তের অঙ্গুলি সকলকে পরস্পরের সন্ধিমধ্যগত করিয়া কনিষ্ঠার সহিত অনামিকার যোগ করিবে, এই তর্জ্জনীর অগ্রভাগের সহিত মধ্যমার অগ্রভাগ সংযুক্ত করিবে, ইহারই নাম ধেনুমুদ্রা, সাধক ইহা দ্বারা অমৃতীকরণ করিবে।।৮।।
অন্যোন্যগ্রতিথাঙ্গুষ্ঠা প্রসারিতপরাঙ্গুলিঃ মহামুদ্রেয়মুদিতা পরমীকরণে বুধৈঃ।।৯।।
পরমীকরণমুদ্রা - উভয়হস্তের অঙ্গুষ্ঠদ্বয়কে পরস্পর গ্রথিত করিয়া অপর অঙ্গুলিসকল প্রসারিতকরিলে মহামুদ্রা হয়, ইহাদ্বারা পরমীকরণ করিবে।।৯।।
বামাঙ্গুষ্ঠন্তু সংগৃহ্য দক্ষিণেন তু মুষ্টিনা।
কৃত্বোত্তানং ততো মুষ্ঠিমঙ্গুষ্ঠন্তু প্রসারয়েৎ।
দক্ষিণাঙ্গুষ্ঠ সংস্পৃষ্টা জ্ঞেয়ৈষা শঙ্খমুদ্রিকা।।১০।।
শঙ্খমুদ্রা - দক্ষিণহস্তের মুষ্টিদ্বারা বামহস্তের অঙ্গুষ্ঠ গ্রহণ করিয়া ঐ মুষ্টি চিৎ করিয়া রাখিবে ও দক্ষিণহস্তের অঙ্গুষ্ঠ প্রসারিত করিবে। পরে বামহস্তের সমস্ত অঙ্গুলি পরস্পরে সংযুক্ত করিয়া, প্রসারণপূর্ব্বক দক্ষিণহস্তের অঙ্গুষ্ঠাঙ্গুলিতে মিলিত করিবে। এই মুদ্রার নাম শঙ্খমুদ্রা।।১০।।
হস্তৌ তু সন্মুখৌ কৃত্বা সন্নতপ্রথিতাঙ্গুলী।
তলান্ত্রর্মিলিতাঙ্গুষ্ঠৌ সুভুগ্নৌ সুপ্রসারিতৌ।
কনিষ্ঠাঙ্গুষ্ঠকৌ লগ্নৌ মুদ্রৈষা চক্রসংজ্ঞিকা।।১১।।
চক্রমুদ্রা - অঙ্গুলি সকল সন্নত ও প্রোথিতভাবে বিন্যস্ত করিয়া হস্তদ্বয় পরস্পর সম্মুখীন করিবে। পরে অঙ্গুষ্ঠদ্বয় করতলে মিলিত করিয়া ও কনিষ্ঠাঙ্গুলিদ্বয় প্রসারিত ও বক্রভাবে সংলগ্ন করিলে চক্রমুদ্রা হয়।।১১।।
অন্যোহন্যাভিমুখৌ হস্তৌ কৃত্বা তু গ্রথিতাঙ্গুলী।
অঙ্গুলী মাধ্যমে ভূয়ঃ সুলগ্নে সুপ্রসারিতে।
গদামুদ্রেয়মূদিতা বিষ্ণোঃ সন্তোষবর্দ্ধিনী।।১২।।
গঙ্গামুদ্রা - উভয় হস্ত পরস্পর সম্মুখে রাখিয়া অন্যান্য সমস্ত অঙ্গুলি গ্রথিত করিবে এবং পরে মধ্যমাদ্বয় সংলগ্ন করিয়া প্রসারিত করিলে গঙ্গামুদ্রা হয়।।১২।।
হস্তৌ তু সম্মুখৌ কৃত্বা সন্নতপ্রোথিতাঙ্গুলী
তলান্ত্ররম্মিলিতাঙ্গুষ্ঠো কৃত্বৈষা পদ্মমুদ্রিকা।।১৩।।
পদ্মমুদ্রা - উভয় হস্ত সম্মুখীন করিয়া অঙ্গুলি সকল সন্নতভাবে প্রোথিত করতঃ অঙ্গুষ্ঠদ্বয় হস্ততলে মিলিত করিয়া পদ্মমুদ্রা হয়।।১৩।।
ওষ্ঠে বামকরাঙ্গুষ্ঠো লগ্নস্তন্য কনিষ্ঠিকা।
দক্ষিণাঙ্গুষ্ঠসংযুক্তা তৎকনিষ্ঠা প্রসারিতা।।
তর্জ্জনীমধ্যমানামাঃ কিঞ্চিৎ সঙ্কুয়া চালিতাঃ।
বেণুমুদ্রা ভবত্যেষা সুগুপ্তা প্রেয়সী হরেঃ।।১৪।।
বেনুমুদ্রা - বামহস্তের অঙ্গুষ্ঠ ওষ্ঠে সংযুক্ত করিয়া বামকনিষ্ঠা দক্ষিনহস্তের অঙ্গুষ্ঠতে সংলগ্ন করিবে। পরে দক্ষিণহস্তের অঙ্গুষ্ঠ সংযুক্ত কনিষ্ঠাকে প্রসারিত করিয়া তর্জ্জনী, মধ্যমা ও অনামিকা এই অঙ্গুলিত্রয়কে কিঞ্চিৎ সঙ্কুচিত করতঃ পরিচালিত করিবে, ইহাকে বেণুমুদ্রা বলে।।১৪।।
অন্যোন্যপৃষ্ঠকরয়োর্ম্মধ্যমানামিকাঙ্গুলী।
অঙ্গুষ্ঠেন তু বঘ্নীয়াৎ কনিষ্ঠামুলসংস্থিতে।
তর্জ্জন্যৌ কারয়েদেষা মুদ্রা শ্রীবৎসসংজ্ঞিকা।।১৫।।
শ্রীবৎসমুদ্রা - উন্নতহস্তের পৃষ্ঠদেশে বিপর্যস্তভাবে সংলগ্ন করিয়া দক্ষিণ হস্তের মধ্যমা ও অনামিকা বামহস্তের অঙ্গুলিদ্বারা বামহস্তের মধ্যমা ও অনামিকাকে দক্ষিণহস্তের অঙ্গুলিদ্বারা আবদ্ধ করিয়া তর্জ্জনীকে কনিষ্ঠা মূলে সংস্থাপিত করিলে শ্রীবৎসমুদ্রা হয়।।১৫।।
অনালাপৃষ্ঠসংলগ্না দক্ষিণস্য কনিষ্ঠিকা।
কনিষ্ঠায়ান্যয়া বদ্ধা তর্জন্যা দক্ষয়া তথা।।
বামানামাঞ্চ বধ্নীয়াদ্‌ দক্ষিণাঙ্গুষ্ঠমূলকে।
অঙ্গুষ্ঠমধ্যমে বামে সংযোজ্য সরলাঃ পরাঃ।
চতস্রোহপ্যগ্রসংলগ্না মুদ্রা কৌস্তুভসংজ্ঞিকা।।১৬।।
কৌস্তুভমুদ্রা - দক্ষিণহস্তের কনিষ্ঠা অঙ্গুলিকে অনামিকার পৃষ্ঠদেশে সংলগ্ন করিয়া বামহস্তের কনিষ্ঠাদ্বারা ঐ কনিষ্ঠা আবদ্ধ করিয়া, দক্ষিণহস্তের তর্জ্জনী দ্বারা বামহস্তের অনামিকাকে বন্ধন করিবে। পরে দক্ষিণহস্তের অঙ্গুষ্ঠমূলে বামহস্তের অঙ্গুষ্ঠ ও মধ্যমা সংলগ্ন করিয়া, অপর চারি অঙ্গুলি সরলভাবে পরস্পর অগ্রভাগে সংযুক্ত করিলে তাহাকে কৌস্তুভমুদ্রা বলে।।১৬।।
স্পৃশেৎ কণ্ঠাদিপাদান্তং তর্জ্জন্যঙ্গুষ্ঠয়া তথা।
করদ্বয়েন মালাবন্মুদ্রেয়ং বনমালিকা।।১৭।।
বনমালামুদ্রা - উভয়হস্তের অঙ্গুষ্ঠ ও তর্জ্জনী পৃথক্‌ পৃথক্‌ সংযুক্ত করিয়া কণ্ঠ হইতে পাদপর্যন্ত স্পর্শ করিয়া করদ্বয় মালাবৎ করিলেই বনমালা মুদ্রা বলা হয়।।১৭।।
তর্জ্জন্যঙ্গুষ্ঠকৌ সক্তাবগ্রতো বিন্যসেৎ সুধীঃ।
বামহস্তাম্বুজং বামজানু-মুর্দ্ধনি বিন্যসেৎ।
জ্ঞানমুদ্রা ভবেদেষা রামচন্দ্রস্য প্রেয়সী।।১৮।।
জ্ঞানমুদ্রা - দক্ষিণহস্তের অঙ্গুষ্ঠ ও তর্জ্জনীর অগ্রভাগ সংযুক্ত করিয়া হৃদয় প্রদেশে বিন্যস্ত্ করিবে এবং বামহস্ত বামজানুর উপর স্থাপন করিলে জ্ঞানমুদ্রা হয়।।১৮।।
অঙ্গুষ্ঠং বামমুদ্দণ্ডিতমিতরকরাঙ্গুষ্ঠকেনাপি বদ্ধা,
তস্যাগ্রং পীড়য়িত্বাঙ্গুলিভিরপি চ তা বামহস্তাঙ্গুলীভিঃ।
বদ্ধা গাঢ়ং যদি স্থাপয়তু বিমলধীবাহরন্‌ মারবীজং
বিল্বাখ্যা মুদ্রিকৈষা স্ফুটমিহ গদিতা গোপনীয়া বিধিজ্ঞৈঃ।।১৯।।
বিল্বমুদ্রা - বামহস্তের অঙ্গুষ্ঠকে দক্ষিণহস্তের অঙ্গুষ্ঠদ্বারা আবদ্ধ করিয়া তাহার অগ্রভাগ দক্ষিণহস্তের অন্যান্য অঙ্গুলিদ্বারা পীড়িত করিবে এবং দক্ষিণহস্তের অঙ্গুলিসকল বামহস্তের অঙ্গুলিদ্বারা আবদ্ধ করিয়া কামবীজ উচ্চারণ পূর্ব্বক হস্তদ্বয় হৃদয়ে স্থাপন করিলে, উহাকে বিল্বমুদ্রা বলে।।১৯।।
হস্তৌ তু বিমুখৌ কৃত্বা গ্রথয়িত্বা কনিষ্ঠিকে।
মিথস্তর্জ্জনিকে শ্লিষ্টে শ্লিষ্টাবঙ্গুষ্ঠকৌ তথা।।
মধ্যমানামিকে দ্বে তু দ্বৌ পক্ষাবিব চালয়েৎ।।
এষা গরুড়মুদ্রা স্যাদ্‌ বিষ্ণোঃ সন্তোষবর্দ্ধিনী।।২০।।
গরুড়মুদ্রা - একহস্তের পৃষ্ঠদেশে অন্য হস্ত বিপরীতভাবে স্থাপন করিয়া কনিষ্ঠার সহিত কনিষ্ঠা, তর্জ্জনীর সহিত তর্জ্জনী, অঙ্গুষ্ঠার সহিত অঙ্গুষ্ঠা গ্রথিত করিবে এবং মধ্যমা ও অনামিকাদ্বয় পদদ্বয়ের ন্যায় পরিচালিত করিলে গরুড়মুদ্রা হয়।।২০।।
জানুমধ্যে করৌ কৃত্বা চিবুকোষ্ঠৌ সমাবুভৌ।
হস্তৌ তু ভূমিসংলগ্নৌ কম্পমানঃ পুনঃ পুনঃ।
মুখং বিবৃতকং কুর্ষ্যাল্‌ লৈলিহানাঞ্চ জিহ্বিকাম্‌।।
নারসিংহী ভবেদেষা মুদ্রা তৎপ্রীতিবর্দ্ধিনী।।২১।।
নারসিংহীমুদ্রা - জানুমধ্যে করদ্বয় স্থাপন করিয়া চিবুক ও অষ্ঠ সমভাবে রাখিবে এবং হস্তদ্বয় ভূমিসংলগ্ন করতঃ কম্পান্বিত কলেবরে মুখ বিবৃত করিয়া জিহ্বা বহির্গত করিয়া বারম্বার পরিচালিত করিলে বারসিংহীমুদ্রা হয়।।২১।।
দক্ষহস্তঞ্চোর্দ্ধ মুখং বামহস্তমধোমুখম্‌।
অঙ্গুল্যগ্রন্তু সংযুক্তং মুদ্রা বরাহসংজ্ঞিকা।।২২।।
বারাহীমুদ্রা - দক্ষিণহস্ত ঊর্দ্ধমুখে এবং বামহস্ত অধোমুখে স্থাপন করিয়া উভয় হস্তের অঙ্গুলির অগ্রভাগ পরস্পর সংযুক্ত করিলে বারাহীমুদ্রা হয়।।২২।।
বামস্য মধ্যমাগ্রন্তু তর্জ্জন্যগ্রেণ যোজয়েৎ।
অনামিকা কনিষ্ঠাঞ্চ তস্যাঙ্গুষ্ঠেন পীড়য়েৎ।
দর্শয়েদ্বামকে স্কন্ধে ধনুর্ম্মুদ্রেয়মীরিতা।।২৩।।
ধনুমুদ্রা - বামহস্তের মধ্যমার অগ্রভাগ দক্ষিণহস্তের তর্জ্জনীর অগ্রভাগের দ্বারা সংযোজিত করিয়া সেই হস্তের অঙ্গুষ্ঠদ্বারা অনামিকা ও কনিষ্ঠাকে নিপীড়িত করতঃ বামস্কন্ধ স্পর্শ করিলে ধনুমুদ্রা হয়।।২৩।।
দক্ষমুষ্টেস্তু তর্জ্জন্যা দীর্ঘয়া বাণমুদ্রিকা।।২৪।।
বাণমুদ্রা - দক্ষিণহস্ত মুষ্টিবদ্ধ করিয়া তর্জ্জনীকে দীর্ঘভাবে প্রসারিত করিলে বাণমুদ্রা হয়।।২৪।।
তলে তলন্তু করয়োস্তির্য্যক্‌ সংযোজ্য চাঙ্গুলীঃ।
সংহতা প্রসৃতাঃ কুর্য্যাম্মুদ্রা পরশুসংজ্ঞিকা।।২৫।।
পরশুমুদ্রা - করতলে করতলে সন্নিবেশিত করিয়া স্ব স্ব অঙ্গুলিসকল যতদূর ব্যবধান করিয়া পারা য়ায়, ততদূর ব্যবধান করিয়া মিলিত ও প্রসারিত করিলে পরশুমুদ্রা হয়।।২৫।।
উচ্ছ্রিতাংঙ্গুষ্ঠমুষ্টি দ্বে মুদ্রা ত্রৈলোক্যমোহিনী।।২৬।।
ত্রৈলক্যমোহিনীমুদ্রা - উভয় হস্ত মুষ্টিবদ্ধ করিয়া অঙ্গুষ্ঠদ্বয় ঊর্দ্ধে প্রসারিত করিলে ত্রৈলোক্যমোহিনী মুদ্রা হয়।।২৬।।
হস্তৌ তু সম্পুটৌ কৃত্বা প্রসৃতাঙ্গুলিকা তথা।
তর্জ্জনৌ মধ্যমা পৃষ্ঠে অঙ্গুষ্ঠৌ মধ্যমাশ্রিতৌ।
কামমুদ্রেয়ম্‌দিতৌ সর্ব্বদেবপ্রিয়ঙ্করী।।২৭।।
কামমুদ্রা - হস্তদ্বয় পরস্পর সম্মুখীন করিয়া অঙ্গুষ্ঠদ্বয় প্রসারিত করিবে, তৎপরে তর্জ্জনীদ্বয় মধ্যমার পৃষ্ঠদ্বেশে সংলগ্ন করতঃ অঙ্গুষ্ঠদ্বয় মধ্যমাতে সংযোজিত করিলে কামমুদ্রা হয়।।২৭।।
উচ্ছ্রিতং দক্ষিণাঙ্গুষ্ঠং বামাঙ্গুষ্ঠেন বেষ্টইয়েৎ।
বামাঙ্গুলীর্দ্দক্ষিণাভিরঙ্গুলীভিশ্চ বন্ধয়েৎ।
লিঙ্গমুদ্রেয়মাখ্যাতা শিবসান্নিধ্যকারিণী।।২৮।।
লিঙ্গমুদ্রা - দক্ষিণহস্তের অঙ্গুষ্ঠকে উন্নত করিয়া বাম অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা বেষ্টন করিবে, পরে বামহস্তের অঙ্গুলি সকিলকে দক্ষিণহস্তের সমুদয় অঙ্গুলিদ্বারা আবদ্ধ করিলে লিঙ্গমুদ্রা হয়।।২৮।।
মিথঃ কনিষ্ঠিকে বদ্ধা তর্জ্জনীভ্যামনামিকে।
অনামিকোর্দ্ধ সংশ্লিষ্টদীর্ঘমধ্যয়োরধঃ।
অঙ্গুষ্ঠাগ্রদ্বয়ং ন্যস্যেদ্‌যোনিমুদ্রেয়মীরিতা।।২৯।।
যোনিমুদ্রা - উভয়হস্তের কনিষ্ঠাদ্বয় পরস্পর বন্ধন করিয়া দক্ষিণ হস্তের তর্জ্জনীদ্বারা বাম অনামিকা এবং বাম তর্জ্জনীদ্বারা দক্ষিণ অনামিকা বন্ধ করিবে পরে অনামিকাদ্বয়ের অগ্রভাগে সংশ্লিষ্ট করিয়া মধ্যমাদ্বয় প্রসারিত করিয়া সেই মধ্যমাদ্বয়ের মূলে অঙ্গুষ্ঠদ্বয় সংলগ্ন করিলে যোনিমুদ্রা হয়।।২৯।।
অঙ্গুষ্ঠরর্জ্জন্যগ্রে তু গ্রথরিত্বাঙ্গুলীত্রয়ম্‌।
প্রসারয়েদক্ষমালামুদ্রেয়ং পরিকীর্ত্তিতা।।৩০।।
অক্ষমালামুদ্রা - দক্ষিণহস্তের অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা তর্জ্জনীকে গ্রথিত করিয়া অঙ্গুলিত্রয় প্রসারিত করিলে অক্ষমালামুদ্রা হয়।।৩০।।
অধঃস্থিতো দক্ষহস্তঃ প্রসৃতো বরমুদ্রিকা।।৩১।।
বরমুদ্রা - দক্ষিণহস্তের অঙ্গুলি সকল প্রসারিত করিয়া অধোমুখ করিলে বরমুদ্রা হয়।।৩১।।
ঊর্দ্ধীকৃতো বামহস্তঃ প্রসৃতোহভয়মুদ্রিকা।।৩২।।
অভয়মুদ্রা - বামহস্তের অঙ্গুলিসকল প্রসারিত করিয়া ঊর্দ্ধীকৃত করিলে অভয়মুদ্রা হয়।।৩২।।
মিলিতানামিকাঙ্গুষ্ঠা মধ্যমাগ্রে নিয়োজয়েৎ।
শ্লিষ্টাঙ্গুলাচ্ছ্রিতে কুর্য্যান্মৃ গমুদ্রেয়মীরিতা।।৩৩।।
মৃগমুদ্রা - অনামিকা এবং অঙ্গুষ্ঠ মিলিত করিয়া মধ্যমার অগ্রে সংযুক্ত করিবে, অবশিষ্ট সমস্ত অঙ্গুলি সংযুক্ত করিয়া উন্নত করিলে মৃগমুদ্রা হয়।।৩৩।।
পঞ্চাঙ্গুল্যে দক্ষিণান্তু মিলিত্বা হ্যূর্দ্ধমূন্নতাম্‌।
খট্টাঙ্গমুদ্রা বিখ্যাতা শিবস্যাতিপ্রিয়া মতা।।৩৪।।
খট্টাঙ্গমুদ্রা - দক্ষিণহস্তের পঞ্চাঙ্গুলি ঊর্দ্ধমুখে প্রসারিত করিয়া মিলিত করিলে খট্টাঙ্গমুদ্রা হয়।।৩৪।।
পাত্রবদ্বামহস্তন্তু কৃতাঙ্গে বামকে তথা।
নিধায়োচ্ছ্রিতবৎ কুর্য্যান্মুদ্রা কাপালিকী মিতা।।৩৫।।
কাপালিকীমুদ্রা - বামহস্তপাত্রবৎ করিয়া বামাঙ্গে বিন্যাস করতঃ উত্তান ভাবে রাখিলে কাপালিকীমুদ্রা হয়।।৩৫।।
মুষ্টিঞ্চ শিথিলাং বদ্ধাঈষদুচ্ছ্রতমধ্যমাম্‌।
দক্ষিণামূর্দ্ধমুন্নস্য কর্ণদেশে প্রচালয়েৎ।
এষা মুদ্রা ডমরুকা সর্ববিধ্নবিনাশিনী।।৩৬।।
ডমরুমুদ্রা - দক্ষিণহস্ত শিথিলভাবে মুষ্টিবদ্ধ করতঃ মধ্যমাঙ্গুলি কিঞ্চিৎ উন্নত করিয়া, কর্ণদেশে পরিচালিত করিলে ডমরুমুদ্রা হয়।।৩৬।।
ঋজ্বীঞ্চ মধ্যমাং কৃত্বা তর্জনীমধ্যপর্ব্বণি।
সংযোজ্যাকুঞ্চয়েৎ কিঞ্চিন্মুদৈশাঙ্কুলসংজ্ঞিকা।।৩৭।।
অঙ্কুশমুদ্রা - মধ্যমাঙ্গুলি সরলভাবে প্রসারিত করিয়া কিঞ্চিৎ সঙ্কোচিত করতঃ তর্জ্জনীর মধ্যপর্ব্বে সংযোজিত করিলে অঙ্কুশমুদ্রা হয়।।৩৭।।
তর্জ্জনী মধ্যমানামাকনিষ্ঠাঙ্গুষ্ঠমুষ্টিকা।
অধোমুখী দীর্ঘরূপা মধ্যমা বিধ্নমুদ্রিকা।।৩৮।।
বিঘ্নমুদ্রা - তর্জ্জনী, মধ্যমা, অনামিকা, কনিষ্ঠা ও অঙ্গুষ্ঠ এই সমস্ত অঙ্গুলি মুষ্টিবদ্ধ করিয়া মধ্যমাঙ্গুলি অধোমুখে দীর্ঘাকারে প্রসারিত করিলে বিঘ্নমুদ্রা হয়।।৩৮।।
কনিষ্ঠানামিকে বদ্ধা সাঙ্গুষ্ঠেনৈব দক্ষতঃ।
শিষ্টাঙ্গুলী তু প্রসৃতে সংশ্লিষ্টে খড়্গমুদ্রিকা।।৩৯।।
খড়্গমুদ্রা - দক্ষিণহস্তের অঙ্গুষ্ঠদ্বারা ঐ হস্তের কনিষ্টা ও অনামিকা আবদ্ধ করিয়া অবশিষ্ট তর্জ্জনী ও মধ্যমা সংশ্লিষ্ট করতঃ প্রসারিত করিলে খড়্গমুদ্রা হয়।।৩৯।।
বামহস্তং তথা তির্য্যক্‌ কৃত্বা চৈব প্রসার্য্য চ।
আকুঞ্চিতাঙ্গুলীঃ কুর্য্যাচ্চর্ম্মমুদ্রেয়মীরিতা।।৪০।।
চর্ম্মমুদ্রা - বামহস্ত বক্রীভূত করিয়া প্রসারিত করতঃ অঙ্গুলিসকল কিঞ্চিৎ আকুঞ্চিত করিবে, ইহার নাম চর্ম্মমুদ্রা।।৪০।।
কনিষ্ঠাঙ্গুষ্ঠকৌ সক্তৌ করয়োরিতরেতরম্‌।
তর্জনী মধ্যমানামাঃ সংহতা ভূগ্নবর্জ্জিতাঃ।
মুদ্রৈষা গালিনী প্রোক্তা শঙ্খস্যোপরিচালিতা।।৪১।।
গালিনীমুদ্রা - দক্ষিণহস্তের কনিষ্ঠা বামহস্তের অঙ্গুষ্ঠতে এবং বামহস্তের কনিষ্ঠা দক্ষিণহস্তের অঙ্গুষ্ঠতে সংযোজিত করিয়া তর্জ্জনী, মধ্যমা ও অনামিকা অঙ্গুলি সরলভাবে মিলিত করিলে গালিনীমুদ্রা হয়।।৪১।।
প্রসৃতাঙ্গুলিকৌ হস্তৌ মিথঃ শ্লিষ্টৌ চ সন্মুখৌ।
কুর্য্যাৎ স্বে হৃদয়ে সেয়ং মুদ্রা প্রার্থনসংজ্ঞিকা।।৪২।।
প্রার্থনামুদ্রা - উভয় হস্ত সম্মুখে রাখিয়া অঙ্গুলিসকল পরস্পর মিলিত করতঃ আপন হৃদয়ে সংলগ্ন করিলে প্রার্থনামুদ্রা হয়।।৪২।।
অধোমুখে বামহস্তে ঊর্দ্ধস্যং দক্ষহস্তকম্‌।
ক্ষিপ্তাঙ্গুলিরঙ্গুলীভিঃ সংগ্রথ্য পরিবর্ত্তয়েৎ।
এষা সংহারমুদ্রা স্যাদ্বিসর্জ্জনবিধৌ স্মৃতা।।৪৩।।
সংহারমুদ্রা - বামহস্ত অধোমুখে এবং দক্ষিণহস্ত ঊর্দ্ধমুখে রাখিয়া উভয় হস্তের অঙ্গুলিসকল পরস্পর গ্রথিত করতঃ হস্ত পরিবর্ত্তিত করিলে সংহারমুদ্রা হয়।।৪৩।।
দক্ষিণপাণিপৃষ্ঠদেশে বামপাণিতলং ন্যসেৎ।
অঙ্গুষ্ঠৌ চালয়েৎ সম্যগ্‌ মুদ্রেয়ং মৎস্যরূপিনী।।৪৪।।
মৎস্যমুদ্রা - দক্ষিণহস্ত অধোমুখে রাখিয়া তাহার পৃষ্ঠদ্বেশে বামপাণিতল সংস্থাপনপূর্ব্বক উভয় অঙ্গুষ্ঠ পরিচালিত করিলে তাহাকে মৎস্যমুদ্রা বলে।।৪৪।।
বামহস্তস্য তর্জ্জন্যাং দক্ষিণস্য কনিষ্ঠয়া।
তথা দক্ষিণতর্জন্যাং বামাঙ্গুষ্ঠেন ষোজম্নেৎ।।
উন্নতং দক্ষিণাঙ্গুষ্ঠং বামস্য মধ্যমাদিকাঃ।
অঙ্গুলীষোজয়েৎ পৃষ্ঠে দক্ষিণস্য করস্য চ।।
বামস্য পিতৃতীর্থেন মধ্যমানামিকে তথা।
অধোমুখে চ তে কুর্য্যাদ্দক্ষিণস্য করস্য চ।।
কূর্ম্মপৃষ্ঠসমং কুর্যায়দ্দক্ষপাণিঞ্চ সর্ব্বতঃ।
কূর্ম্মমুদ্রেয়মাখ্যাতা দেবতাধ্যানকর্ম্মণি।।৪৫।।
কুর্ম্মমুদ্রা - বামহস্তের তর্জ্জনীতে বামহস্তের কনিষ্ঠা এবং দক্ষিণহস্তে তর্জ্জনীতে বামহস্তের অঙ্গুষ্ঠ সংযুক্ত করিয়া দক্ষিহস্তের অঙ্গুষ্ঠ উন্নতভাবে রাখিবে এবং বামহস্তের মধ্যমা, অনামিকা ও কনিষ্টা দক্ষিণহস্তের পৃষ্ঠদেশে সংযুক্ত করিবে; পরে বামহস্তের পিতৃতীর্থে - অর্থাৎ তর্জ্জনী ও অঙ্গুষ্ঠের মধ্যভাগে দক্ষিণহস্তের মধ্যমা ও অনামিকা অধোমুখে সংলগ্ন করিবে এবং দক্ষিণহস্তের পৃষ্ঠদ্বেশ কুর্ম্মপৃষ্ঠের ন্যায় উন্নত করিবে, ইহার নাম কুর্ম্মমুদ্রা।।৪৫।।
তর্জ্জনীমধ্যমানামাঃ সমং কুর্য্যাদধোমুখম্‌।
অনামায়াং ক্ষিপেদ্বদ্ধা মৃজ্বীং কৃত্বা কনিষ্ঠকাম্‌।
লোলিহা নাম মুদ্রেয়ং জীবন্যাসে প্রকীর্ত্তিতা।।৪৬।।
লেলিহামুদ্রা - তর্জ্জনী, মধ্যমা ও অনামিকা সমভাবে অধোমুখ করিয়া অনামিকাতে বৃদ্ধাঙ্গুলি সংযোগ করতঃ কনিষ্ঠাকে সরলভাবে রাখিবে, এই মুদ্রার নাম লেলিহামুদ্রা।।৪৬।।
মধ্যমাতর্জনীভ্যাঞ্চ কনিষ্ঠানামিকে সমে।
অঙ্গুশাকাররূপাভ্যাং মধ্যমে পরমেশ্বরি।।
অঙ্গুষ্ঠৌ তু নিযুঞ্জীত কনিষ্ঠানামিকোপরি।
ইয়মাকর্ষণী মুদ্রা ত্রৈলোক্যকর্ষণী পরা।।৪৭।।
আকর্ষণীমুদ্রা - মধ্যমা ও তর্জ্জনীকে অঙ্কুশাকার করিয়া ও অনামিকাকে সমভাবে রাখিবে, পরে অঙ্গুষ্ঠদ্বয় অনামিকা ও কনিষ্ঠার উপরিভাগে যোজিত করিয়া তর্জনীদ্বয় অঙ্কুশাকৃতি করিলে আকর্ষণীমুদ্রা হয়।।৪৭।।
সব্যং দক্ষিণদেশে তু সব্যদেশে তু দকশকিণম্‌।
বাহুং কৃত্বা মহাদেবি হস্তৌ সম্পরিবর্ত্ত্য চ।
কনিষ্ঠানামিকে দেবি যুক্তে তেন ক্রমেণ চ।
তর্জ্জনীভ্যাং সমাক্রান্তে সর্ব্বোর্দ্ধমপি মধ্যমে।
অঙ্গুষ্ঠৌ তু মহেশানি সরলাবপি কারয়েৎ।
ইয়ং সা খেচরী নাম্না পার্থিবস্থানযোজিতা।।৪৮।।
খেচরীমুদ্রা - বামহস্ত দক্ষিণে এবং দক্ষিণহস্ত বামদিকে স্থাপন করিয়া হস্তদ্বয় পরিবর্ত্তন করতঃ বামহস্তের কনিষ্ঠা ও অনামিকা দক্ষিণহস্তের কনিষ্ঠা ও অনামিকাতে সংযুক্ত করিয়া তর্জ্জনীদ্বয়ে উভয় মধ্যমার ঊর্দ্ধভাগে আক্রমণপূর্ব্বক অঙ্গুষ্ঠদ্বয় সরলভাবে স্থাপিত করিলে খেচরীমুদ্রা হয়।।৪৮।।
মধ্যমে কুটিলে কৃত্ব তর্জ্জন্যুপরিসংস্থিতে।
অনামিকে মধ্যগতে তথৈব হি কনিষ্ঠিকে।।
সর্ব্বা একত্র সংযোজ্য অঙ্গুষ্ঠপরিপীড়িতাঃ।
এষা তু পরমা মুদ্রা যোনিমুদ্রেয়মীরিতা।৪৯।।
যোনিমুদ্রা - মধ্যমাদ্বয় কুটিলাকৃতি করিয়া তর্জ্জনীর উপরিভাগে স্থাপন করিবে এবং কনিষ্ঠাদ্বয়কে অনামিকার মধ্যগত করতঃ সমস্ত অঙ্গুলি একত্র সংযুক্ত করিয়া অঙ্গুষ্ঠদ্বারা অঙ্গুলিদ্বয়কে পীড়িত করিবে, ইহার নাম যোনিমুদ্রা।।৪৯।।
বদ্ধ্বা তু যোনিমুদ্রা ঐ মধ্যমে কুটিলে কুরু।
অঙ্গুষ্ঠেন তদগ্রে তু মুদ্রেয়ং ভূতিনী মতা।।৫০।।
ভূতিনীমুদ্রা - যোনিমুদ্রা বন্ধন করিয়া মধ্যমাঙ্গুলিদ্বয় বক্র করিলে, ঐ মধ্যমাদ্বয়ের উপরিভাগে অঙ্গুষ্ঠদ্বয় সন্নিবেশিত করিলে ভূতিনীমুদ্রা হয়।।৫০।।
- ইতি তন্ত্রসার

3 তান্ত্রিক হোমের স্থণ্ডিল

তান্ত্রিক হোমের স্থণ্ডিল
 
হস্তমাত্রং স্থণ্ডিলং বা সংক্ষিপ্তে হোমকর্ম্মণি।
অঙ্গুলোৎসেধসংযুক্তং চতরস্রং সমন্ততঃ।
বালুকাং পাতয়েত্তত্র স্থণ্ডিলস্থানমুত্তমম্‌।
ত্রিকোণমণ্ডলং কৃত্বা মধ্যে বিন্দুসমাহিতম্‌।
ততো ত্রিকোনঞ্চৈব ষট্‌কোণং পরিকীর্ত্তয়েৎ।
তদ্বহিবৃর্ত্তমাকুর্য্যাষ্টদলসমন্বিতম্‌।
চতুর্দ্বারং লিখিত্বা চ বজ্রভূপুরসংযুতম্‌।
স্থণ্ডিলস্য বহির্ভাগে পূর্ব্বাগ্রমুত্তরাগ্রকম্‌।
তিস্রস্‌তিস্রো রেখাঃ কুর্য্যাদ্‌ হোমকার্য্যে যথাবিধি।।
দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে হস্তপরিমিত স্থানে বালুকা ব্যাপ্ত করিয়া, কুশদ্বারা উহার মধ্যস্থানে একটা ত্রিকোণমণ্ডল করিয়া, তাহার মধ্যে একটি বিন্দু অঙ্কিত করিবে। পরে ঐ ত্রিকোণমণ্ডলের উপরে আর একটি ত্রিকোনমণ্ডল করিয়া বট্‌কোণাকার মণ্ডল করিবে। তৎপরে উহার বাহিরে একটি গোলাকার বৃত্ত মণ্ডল করিয়া বেড় দিবে। তদনন্তর ঐ বৃত্তের গায়ে অষ্টদল পদ্ম অঙ্কিত করিবে। তৎপরে তাহার বাহিরে দুই দুইটি রেখা অঙ্কিত করতঃ প্রান্তস্থানের চারিদিকে দ্বারচতুষ্টয় করিয়া বজ্রভূপুর অঙ্কিত করিবে এবং স্থণ্ডিলের বহির্ভাগে উত্তরাগ্র ও পূর্ব্বাগ্র তিনটি রেখা অঙ্কিত করিবে।

অগ্নির অঙ্গ



যত্র কাষ্ঠং তত্র শ্রোত্রং যতো ধূমোহত্র নাসিকা।
যত্রাল্পজ্বলনং নেত্রং যতোহঙ্গারস্ততঃ শিরঃ।
যত্রপ্রজ্জ্বলিতা জ্জ্বালা সা জিহবা জাতবেদসঃ।।
অগ্নির যেখানে কাষ্ঠ, সেই স্থানে কর্ণ; যেখানে ধূম, সেই স্থানে নাসিকা যেখানে অল্প অল্প জ্বলিতে থাকে, সেই স্থানে নেত্র; যেখানে অঙ্গার, সেই স্থানে শির এবং যেখানে প্রজ্জ্বলিত অগ্নির শিখা, সেই স্থানে জিহবা।
কর্ণহোমে ভবেদ্ব্যাধির্নেত্রেহন্ধত্বং সমীরিতম্‌।
নাসিকায়াং মনঃপীড়া মস্তকে ধনসংক্ষয়ঃ।
জিহবায়াঞ্চ কৃতে হোমে সর্ব্বসিদ্ধির্ভবেদ্‌ ধ্রুবম্‌।।
অগ্নির কর্ণদেশে হোম করিলে হোমকর্ত্তার ব্যাধি হয়, নেত্রহোমে অন্ধত্ব, নাসিকায় মনঃপীড়া, মস্তকে ধনক্ষয় হয়। জিহবায় হোম করিলে সর্ব্বসিদ্ধি লাভ হইয়া থাকে।

অগ্নির নাম

লৌকিকে পাবকো হ্যগ্নিঃ প্রথমঃ পরিকীর্ত্তিতঃ।
আগ্নেস্তু মারুতো নাম গর্ভাধানে বিধীয়তে।।
পুংসবনে চন্দ্রনামা শুঙ্গকর্ম্মণি শোভনঃ।
সীমন্তে মঙ্গল্যে নাম প্রগল্‌ভো জ্বাদকর্ম্মণি।।
নাম্নি স্যাৎ পার্থিবো হ্যগ্নিঃ প্রাশনে চ শুচিস্তথা।
সত্যনামাথ চূড়ায়াং ব্রতাদেশে সমুদ্ভব।
গোদানে সূর্য্যনামা চ কেশান্তে হ্যগ্নিরুচ্যতে।
বৈশ্বানরো বিসর্গে তু বিবাহে যোজকঃ স্মৃতঃ।
চতুর্থ্যান্তু শিখীনাম ধৃতিরগ্নিস্তথাপরে।
প্রায়শ্চিত্তে বিধুশ্চৈব পাকযজ্ঞে তু সাহসঃ।
লক্ষহোমে চ বহ্নিঃ স্যাৎ কোটিহোমে হুতাশনঃ।
পূর্ণাহুত্যাং মৃড়ো নাম শান্তিকে বরদস্তথা।।
পৌষ্টিকে বলদশ্চৈব ক্রোধেহগ্নিশ্চাভিচারিকে।
বশ্যার্থে শমনো নাম বরদানেহভিদূষকঃ।।
কোষ্ঠে তু জঠরো নাম ক্রব্যাদো মৃতভক্ষণে।
আহূয় চৈব হোতব্যং যত্র যো বিহিতোহনলঃ।। ইতি গৃহ্যপরিশিষ্টম্‌।
“প্রায়শ্চিত্তে - প্রায়শ্চিত্তাত্মক ব্যাহ্যতি হোমাদিতে,
 পাকযজ্ঞে - পাকাঙ্গ-হোমবৃষোৎসর্গাদিতে।”
কার্য্য বিশেষে অগ্নির পৃথক পৃথক নাম করিয়া পূজা ও হোম করিতে হয়। যে কার্য্যে অগ্নির যে নামকরণ হয়, তাহা গৃহ্যপরিশিষ্টে উক্ত হইয়াছে। যথা -
লৌকিককর্ম্মে অগ্নির নাম পাবক, গর্ভাধানে মারুত, পুংবসনে চন্দ্র, শুঙ্গাকর্মে শোভন, সীমন্তোন্নয়নে মঙ্গল, জাতকর্ম্মে প্রগলভ, নামকরণে পার্থিব, অন্নপ্রাশনে শুচি, চূড়াকরণে সত্য, ব্রতাদেশে সমুদ্ভব, গোদানে সূর্য্য, কেশান্তে অগ্নি, সাগ্নিকর্ত্তব্যকর্মে বৈশ্বানরঃ, বিবাহে যোজক, চতুর্থীহোমে শিখী, ধৃতিহোমে অগ্নি, প্রায়শ্চিত্তহোমেবিধু, পাকযজ্ঞে বহ্নি, কোটিহোমে হুতাশন, পূর্ণাহুতিতে মৃড়, শান্তিকরমমে বরদ, পৌষটিকর্ম্মে বলদ, অভিচারে ক্রোধ, বশ্যকর্ম্মে শমন, বরদানে অভিদূষক, কোষ্ঠে জঠর, মৃতভক্ষণে - অর্থাৎ চিতায় ক্রব্যাদ। যেখানে যে নাম বিহিত হইয়াছে, সে স্থানে অগ্নির সেই নামে আহবান করিয়া পূজা ও হোম করিবে। ভবদেবভট্ট বিরচিত পদ্ধতিতে সমাবর্ত্তনক্রিয়াতে “তেজ নামক অগ্নির উল্লেখ আছে।”

হোমের অগ্নি



পাষাণভবমগ্নিঞ্চ যদিবারণি সম্ভবম্‌।
শ্রোত্রিয়াণাং গেহজঞ্চ বনস্থং বাখবা হরেৎ।
নিরগ্নিব্রাহ্মণাল্লদ্ধো হ্যর্দ্ধলাভকরো ভবেৎ।
ক্ষভ্রবদ্ধোশ্চতুর্থাংশং ফলং দদ্যাদ্ধুতাশনঃ।।
বৈশ্যাচ্ছুদ্রাচ্চ বিফলং জায়তে হোমকর্ম্মণি।
তস্মাৎ সর্ব্বপ্রযত্নেন বহ্নিমুক্তং সমাহরেৎ।। ইতি গৌতমীয়ে।
পাষাণসম্ভূত, অরণিজাত, অরণ্যস্থিত অথবা ব্রাহ্মণগৃহস্থিত অগ্নি আনয়ন করিয়া তাহাতে হোম করিবে। হোমকার্য্যে সাগ্নিক ব্রাহ্মণের নিকট হইতে অগ্নি গ্রহণ করিবে। নিরগ্নি ব্রাহ্মণের নিকট হইতে অগ্নি গ্রহণ করিলে হোমে অর্দ্ধ ফল হয়। ক্ষত্রিয়ের নিকট অগ্নি গ্রহণ করিয়া তাহাতে হোম করিলে চতুর্থাংশ এবং বৈশ্যের নিকট কিম্বা শূদ্রের নিকট হইতে অগ্নি গ্রহণ করিয়া হোম করিলে সেই হোম নিস্ফল হয়। অতএব সর্ব্বপ্রযত্নে বিধিবিহিত অগ্নি গ্রহণপূর্ব্বক হোম করিবে।
পতিতাগ্নি, শবসন্বন্ধীয় অগ্নি ও দীপ হইতে গৃহীত অগ্নি গ্রহণ করিবে না। কাৎস্যপাত্রে অথবা নূতন শরাবে পবিত্র অগ্নি গ্রহণ করতঃ হোম করিবে।

বেদী, স্থণ্ডিল ও কুণ্ড



বেদী - একহস্ত পরিমিত উচ্চ, সমচতুস্কোণ, দৈর্ঘ্যে প্রস্থে চারিহস্ত, পূর্ব্ব উত্তর ভাগ কিঞ্চিৎ নিম্ন এবং ঊর্দ্ধদেশে চন্দ্রাতপাদি আচ্ছাদিত গোময়াদিতে পরিলিপ্ত পরিস্কৃত ও পবিত্র স্থানকে বেদী বলে।
স্থণ্ডিল - কেশ তুষারাদিরহিত সম চতুর্হস্তপরিমিত বালুকা-ব্যাপ্ত স্থানকে স্থণ্ডিল বলে।
কুণ্ড - ভূমিতে মেখলাযোনি-আদি বিশিষ্ট মনোহর গর্ত্তের নাম কুণ্ড।
তন্ত্রে আটপ্রকার কুণ্ডের উল্লেখ আছে, যথা - চতুরস্রকুণ্ড, যোনিকুণ্ড, অর্দ্ধচন্দ্রকুণ্ড, ত্রাস্রকুণ্ড, বর্ত্তুলকুণ্ড, ষড়স্রকুণ্ড, পদ্মকুণ্ড, অষ্টাস্রকুণ্ড। চতুরস্রকুণ্ডেই প্রায় সমস্ত কার্য্য সম্পন্ন হয় - দেবপূজার হোমাদিতে এই কুণ্ডই প্রশস্ত। চতুর্দ্দিকে একহস্ত পরিমিত ভূমিতে কুশাপাত করিয়া সমচতুরস্ররূপে খনিত কুণ্ডের নাম চতুরস্রকুণ্ড।

পরিমাণজ্ঞান



পরিমাপের কথা উল্লেখ থাকিলে, সে স্থলে যজমানের হস্তাদির মাপ লইয়া হোমকার্য্য করিতে হইবে। পুরোহিতের হাতের মাপ হইলেও চলিতে পারে। দ্বাদশ অঙ্গুলি মাপকে প্রাদেশ প্রমাণ বলে। দক্ষিণহস্ত কনিষ্ঠাঙ্গুলি ভিন্ন মুষ্টিবদ্ধ করিয়া কনুই হইতে কনিষ্ঠাঙ্গুলির অগ্রভাগকে “অরত্নি” বলে। অঙ্গুলির মাপ উক্ত হইলে অঙ্গুষ্ঠর অধোভাগ দ্বারা মাপিতে হয়। হোমাদিকার্য্যে মাপের আবশ্যক হইলে অগ্রে কুশ মাপিয়া লইয়া সেই কুশার দ্বারা স্থণ্ডিলাদি মাপিতে হয়।

হোমের কাষ্ঠ



আম্রকাষ্ঠ, ক্ষিরিবৃক্ষের কাষ্ঠ, বকুল, চম্পক, নাগকেশর প্রভৃতি পুস্পবৃক্ষের কাষ্ঠে হোম করিবে। ব্রাহ্মণগণ বিল্ববৃক্ষের কাষ্ঠেই হোম করিবেন, ইহাই ব্রাহ্মণগণের পক্ষে প্রশস্ত। কোন কোন তান্ত্রিক ক্রিয়ায় কুলকাষ্ঠ দ্বারা হোম বিহিত হইয়াছে। ভিজা অসার, অম্লরসবিশিষ্ট বা কন্টকপূর্ণ কাষ্ঠাদিতে হোম করিবে না।

হোম বিধি



পৌরাণিক পূজাদিতে পৌরাণিক বিধানে, তান্ত্রিক ক্রিয়া দেবপূজা দিতে তান্ত্রিক বিধানে এবং বিবাহাদি সংস্কার ও ব্রতপ্রতিষ্ঠাকার্য্যে বৈদিক বিধানে হোম করতে হয়।


 


2 তান্ত্রিক সংক্ষেপে হোম

তান্ত্রিক সংক্ষেপে হোম



কুণ্ড অথবা স্থণ্ডিল নির্ম্মাণ করিয়া বীক্ষণাদি সংস্কার করিবে। যথা- মূল মন্ত্রে অবলোকন, “ফট” এই মন্ত্রে তাড়ন এবং মূলমন্ত্রে প্রোক্ষণ করিয়া “হূং” এই মন্ত্রে পুনরায় অভ্যূক্ষণ করিবে।
তৎপরে মূলমন্ত্র উচ্চারণপূর্ব্বক “ওঁ কুণ্ডায় নমঃ” এই মন্ত্রে পূজা করিয়া পূর্ব্বাগ্র ও উত্তরাগ্র তিন তিনটি রেখা দিবে। পূর্ব্বাগ্ররেখাত্রয়ে দক্ষিণাদি ক্রমে পূজা করিবে - ওঁ মুকুন্দায় নমঃ, ওঁ ঈশানায়া নমঃ, ওঁ পুরন্দরায় নমঃ তদনন্তর উত্তরাগ্র-রেখাত্রয়ে, - ওঁ ব্রহ্মণে নমঃ, ওঁ বৈবস্বতায় নমঃ, ওঁ ইন্দবে নমঃ, এই ক্রমে পূজা করিবে। সুন্দরীবিষয়ক হোমে সর্ব্বত্র ষট্‌তারা মন্ত্রে পূজা করিবে। ঐঁ হ্রী শ্রী ঐঁ ক্লীং সৌঃ ব্রহ্মণে নমঃ।
তৎপরে কুণ্ডমধ্যে ষট্‌কোণ তদ্বাহ্যে বৃত্ত প্রভৃতি যাহা অঙ্কিত করা হইয়াছিল তাহার উপরে মূলমন্ত্রে পাঁচবার পুস্পাঞ্জলি প্রদান করিবে। সুন্দরী পক্ষে বালা বীজে পঞ্চ পুস্পাঞ্জলী দিতে হয়।
অতঃপর “ওঁ” এই মন্ত্রে হোমের দ্রব্য সমুদয় প্রোক্ষণ করিয়া বহ্নির, যোগপীঠ পূজা করিবে। যথা- কর্ণিকোপরি -
এতে গন্ধপুস্পে ওঁ আধার শক্ত্যাদিপীঠদেবতাভ্যো নমঃ। (এই ক্রমে)
অগ্ন্যাদি কোণ চতুষ্টয়ে ধর্ম্মায়, জ্ঞানায়, বৈর গ্যায়, ঐশ্বর্য্যায়।
পূর্ব্বাদিদিক্‌ চতুষ্টয়ে অধর্ম্মায়, অজ্ঞানায়, অবৈরাগ্যায়, অনৈশ্বর্য্যায়।
মধ্যে অনন্ত্যায়, পদ্মায়,
অং অকর্মণ্ডলায় দ্বাদশকলাত্মনে, উং সোমমণ্ডলায় ষোড়শকলাত্মনে,
মং বহ্নিমণ্ডলায় দশকলাত্মনে, কেশর ও পূর্ব্বাদিমধ্যে পীতায়ৈ,
শ্বেতায়ৈ, অরুণায়ৈ, কৃষ্ণায়ৈ, ধূম্রায়ৈ, তীব্রায়ৈ, স্ফুলিঙ্গিন্যৈ, রুচিরায়ৈ,
জ্বালিন্যৈ বং বহ্ন্যাসনায়, আদিতে ‘ওঁ’এবং অন্ত্যে ‘নমঃ’ শব্দ ব্যবহার করিবে।
ওঁ বাগীশ্বরীমৃতুস্নাতাং নালেন্দীবরলোচনাম।
বাগীশ্বরেণ সংযুক্তাং ক্রীড়াভাবসমন্বিতাম্‌।।
এই মন্ত্র পাঠ করিয়া “ওঁ হ্রীং বাগীশ্বরসহিত-বাগীশ্বর্য্যৈ” এই মন্ত্রে পঞ্চোপচারে পূজা করিবে।
বিধিবিহিত অগ্নি সংগ্রহ করিয়া মূলমন্ত্র উচ্চারণপূর্ব্বক “বৌষট্‌” মন্ত্রে অগ্নিকে অভিমন্ত্রিত ও অবলোকন করিবে।
অনন্তর “অস্ত্রায় ফট্‌” মন্ত্রে আবাহন করিয়া মূলমন্ত্র উচ্চারণ পূর্ব্বক “হূঁ ফট্‌ ক্রব্যাদেভ্যঃ স্বাহা” এই মন্ত্রে ক্রব্যাদাংশ (প্রজ্জ্বলিত অগ্নির কিয়দংশ) পরিত্যাগ করিবে। তৎপর “ফট্‌”, এইমন্ত্রে বহ্নিরক্ষণ, “হূং” এই মন্ত্রে অবগুন্ঠন ও “রং” মন্ত্রে ধেনুমুদ্রাদ্বারা অমৃতীকরণ করিয়া দুই হস্তদ্বারা বহ্নি ধারণ করতঃ কুণ্ডোপরি তিনবার পরিভ্রমণপূর্ব্বক জানুদ্বারা ভূমি স্পর্শ করিয়া বহ্নিতে শিববীজ চিন্তা করিতে করিতে কুণ্ডের মধ্যস্থলে আত্মাভিমুখে স্থাপন করিবে।
তদন্তর “হ্রী বহ্নিমূর্ত্তয়ে নমঃ” এই মন্ত্রে পূজা করিয়া “রং’ বহ্নিচৈতন্যায় নমঃ” এই মন্ত্রে বহ্নির চৈতন্য সংযোজন করিয়া - ওঁ চিৎপিঙ্গল হন হন দহ দহ পচ পচ সর্ব্বজ্ঞাজ্ঞাপয় স্বাহা, মন্ত্রে গন্ধপুস্প দিয়া বহ্নি প্রজ্জ্বলিত করিবে, পরে হাত জোড় করিয়া পাঠ করিবে -
ওঁ অগ্নিং প্রজ্জ্বলিতং বন্দে জাতবেদং হুতাশনম্‌।
সুবর্ণবর্ণমমলং সমিদ্ধং বিশ্বতোমুখম্‌।।
অগ্নে ত্বং অমুকদেবতানামাসি বলিয়া*
অগ্নির বামকরণপূর্ব্বক ওঁ বৈশ্বানর জাতদেব ইহাবহ
লোহিতাক্ষ সর্ব্বকর্ম্মাণি সাধয় স্বাহা - এইমন্ত্রে অর্ঘ্যাদি উপচার দ্বারা পূজা করিয়া,
“এতে গন্ধপুস্পে ওঁ অগ্নের্হিরণ্যাদিসপ্তজিহবাভ্যো নমঃ”
এইক্রমে “ওঁ সহস্রর্চ্চিষে হৃদয়য় নমঃ” ইত্যাদি অগ্নি ষড়জেভ্যো নমঃ,
ওঁ অগ্নয়ে জাতবেদসে ইত্যাদ্যষ্টমূর্ত্তিভ্যো নমঃ
তদ্বাহ্যে ওঁ ব্রাহ্ম্যাদ্যষ্টশক্তিভ্যো নমঃ,
তদ্বহিঃ ওঁ পদ্মাদ্যষ্টনিধিভ্যো নমঃ
তদ্বাহ্যে ওঁ ইন্দ্রাদিলোকপালেভ্যো নমঃ
তদ্বাহ্যে ওঁ ধবজাদ্যস্থেভ্যো নমঃ।।
*অমুকদেবতানামাসি স্থলে যে দেবতার হোম, সেই দেবতার নামই করিতে হইবে। যথা - পূজায় অগ্নে ত্বং “দক্ষিণকালিকানামাসি” বলিতে হইবে।
অতঃপর প্রাদেশ প্রমাণ কুশপত্রদ্বয় (পবিত্র) ঘৃতমধ্যে নিক্ষেপপূর্ব্বক বাম দক্ষিণ ও মধ্যভাগে ইড়া পিঙ্গলা সুষুম্না নাড়ী চিন্তা করতঃ ঘৃতপাত্রের বাম দক্ষিণভাগ হইতে ঘৃত গ্রহণ করিয়া হোম করিবে। প্রথমতঃ স্রুব দ্বারা (কাষ্ঠের হাতা বা কুশিতে করিয়া) আজ্যস্থালীর (ঘৃতপাত্রের) দক্ষিণভাগ হইতে ঘৃত গ্রহণ করিয়া ‘ওঁ অগ্নয়ে স্বাহা” এই মন্ত্রে অগ্নির দক্ষিণনেত্রে হোম করিবে। ঐরূপ বামভাগ হইতে ঘৃত গ্রহণ করিয়া বামনেত্রে হোম করিবে, “ওঁ সোমায় স্বাহা।” মধ্যভাগ হইতে ঘৃত লইয়া অগ্নির ললাটনেত্রে হোম করিবে, “ওঁ অগ্নিসোমাভ্যাং স্বাহা” পুনরায় ‘ওঁ নমঃ’ বলিয়া দক্ষিণভাগ হইতে ঘৃত লইয়া - “ওঁ অগ্নয়ে স্বিষ্টিকৃতে স্বাহা” এই মন্ত্রে অগ্নির মুখে হোম করিবে। অনন্তর মহাব্যাহৃতিহোম করিবে - ওঁ ভূঃ স্বাহা, ওঁ ভূবঃ স্বাহা, ওঁ স্বঃ স্বাহা, ওঁ ভূর্ভূবঃ স্বঃ স্বাহা।
অনন্তর “ওঁ বৈশ্বানর জাতবেদ ইহাবহ লোহিতাক্ষ সর্ব্বকর্ম্মাণি সাধয় স্বাহা” এই মন্ত্রে তিনবার হোম করিয়া অগ্নিতে পীঠদেবতাসহ মূল দেবতার পূজা করিয়া ঘৃতদ্বারা মূলমন্ত্রে পঞ্চবিংশতিবার আহুতি দিবে। অনন্তর আত্মার সহিত বহ্নি ও দেবতার একত্ব চিন্তা করিয়া মূলমন্ত্রে একাদশবার আহুতি দিবে। তৎপরে “ওঁ মূলমন্ত্রস্যাঙ্গদেবতাভ্যঃ স্বাহা” এবং “আবরণদেবতাভ্যঃ স্বাহা” - এই মন্ত্রে হোম করিবে। সমর্থ হইলে অঙ্গদেবতার প্রত্যেককে এক এক আহুতি দিবে। তদন্তর সঙ্কল্প করিয়া বিল্বপত্র দ্বারা হোম করিবে। সঙ্কল্প যথা -
অদ্যেত্যাদি - অমুকদেবতাপ্রীতিকামঃ অমুকদেবতাপূজাকর্ম্মণি (মূল-মন্ত্রোচ্চারণপূর্ব্বক) স্বাহেতি মন্ত্রকরণকাষ্টোত্তরশত (কিম্বা যতটা হইবে) সংখ্যকসাজ্যবিল্বপত্রসামাদ্ভর্হ্যে মমহং করিষ্যে।
তৎপরে একটি একটি করিয়া বিল্বপত্রে ঘৃত মাখাইয়া মূলমন্ত্র উচ্চারণপূর্ব্বক স্বাহান্ত মন্ত্রে একটি একটি আহুতি দিবে। বিল্বপত্র না হইয়া যদি অন্য কোন দ্রব্য দ্বারা হোম করা হয়, তবে তাহারই নামোল্লেখাদি করিবে। অনন্তর মূল মন্ত্রে পূর্ণাহুতি দিয়া পূর্ণপাত্র উৎসর্গ এবং দক্ষিণান্ত করিয়া অগ্নির বিসর্জ্জন ও অচ্ছিদ্রাবধারণ করিবে।

1 পুরোহিত দর্পন


সামবেদীয় সর্ব্বকর্ম-সাধারণীয় বা সামান্য কুশণ্ডিকা।

সমচতুস্কোণ চতুর্হস্তপ্রমাণ কেশতুষাঙ্গারাদিরহিত গোময়াদি পরিলিপ্ত স্থানে বালুকা ব্যাপ্ত করিয়া কুশাসনে পূর্ব্বাভিমুখী হইয়া উপবেশন করিবে। হোমকার্য্যে মস্তকে ঊষ্ণীষ বাঁধিতে হয় এবং তিলকাদির দ্বারা কপাল সুশোভিত করিয়ে হয়। অনন্তর দক্ষিণজানু ভূমিতে পাতিত ও বামজানু উত্থাপিত করিয়া উত্তরদিকে অভ্যুক্ষণার্থ কুশকুসুমসহিত জলপাত্র রক্ষা করিবে। ঐ জলপাত্রের পশ্চিমে উত্তরাগ্র করিয়া কতিপয় কুশা পাতিয়া বহ্নিস্থাপন পর্য্যন্ত ঐ কুশার প্রাদেশ প্রমাণ একটি কুশা বামহস্তে গ্রহণ করতঃ অই হস্ত চিৎভাবে রাখিবে।।
অনন্তর দক্ষিণহস্তের অনামিকা ও অঙ্গুষ্ঠ অঙ্গুলিদ্বারা গৃহীত কুশমূলে রেখাকরণ করিবে (রেখাকরণের পূর্ব্বেই পাতিত বালুকার উপরি দ্বাদশাঙ্গুলি পরিমিত কুশা নৈঋর্তকোণ হইতে পূর্ব্বমুখ করিয়া পাতিত করিবে। তৎপরে একবিংশতি অঙ্গুলি পরিমিত অপর একটি কুশা উত্তরমুখ করিয়া স্থাপন করিবে। তৎপরে সপ্ত অঙ্গুলি পরিমিত আর একটি কুশা দ্বিতীয় রেখার চারি অঙ্গুলি উর্দ্ধে প্রথম কুশার গাত্র সংলগ্ন করিয়া উত্তরমুখ করিয়া রাখিবে ও উহার উত্তরসীমা হইতে পূর্ব্বমুখ করিয়া একটি প্রাদেশ প্রমাণ কুশা স্থাপন করিবে। তৎপরে পূর্বক্রমে সাত অঙ্গুলি আর একটি কুশা প্রথম সপ্তাঙ্গুল কুশার উত্তরদিকে উত্তরমুখ করিয়া রাখিবে। ঐ কুশার উত্তর হইতে পূর্বমুখ করিয়া প্রাদেশ প্রমাণ আর একটি কুশা রাখিবে। তদনন্তর আর একটি সাত অঙ্গুলি কুশা দ্বিতীয় সপ্তাঙ্গুল কুশার প্রাদেশ প্রমাণ কুশা রাখিয়া দিবে। এইরূপ করিয়া সাজাইলে রেখাকরণের সময় সেই সেই কুশার, মাত্র মন্ত্রপাঠপূর্ব্বক রেখা টানিয়া গেলেই সহজ হইবে। কেহ কেহ স্থণ্ডিল প্রস্তুত করিয়া কুশাদ্বারা একেবারে রেখা টানিয়া রাখেন, তৎপরে মন্ত্রপাঠ করিয়া ঐ সকল স্পষ্টীকৃত করেন।) যথা-
দ্বাদশাঙ্গুলি প্রমাণ পূর্ব্বমুখী রেখা –
ওঁ রেখেয়া পৃথ্বীদেবতাকা পীতবর্ণা।।১।।
তাহার মূল হইতে একবিংশতি অঙ্গুল প্রমাণ উত্তরমুখী রেখা –
ওঁ রেখেয়ং অগ্নিদেবতাকা লোহিতবর্ণা।।২।।
প্রথম রেখা হইতে সপ্তমাঙ্গুল অন্তরিত প্রাদেশ প্রমাণ পূর্ব্বাভিমুখী রেখা –
ওঁ রেখেয়ং প্রজাপতি-দেবতাকা কৃষ্ণবর্ণা।।৩।।
পুনরায় অন্য সপ্তাঙ্গুল অন্তরিত প্রাদেশ প্রমাণ পূর্ব্বাভিমুখী রেখা –
ওঁ রেখেয়মিন্দ্রদেবতাকানীলবর্ণা।।৪।।
তাহা হইতে সপ্তাঙ্গুল পরিমিত প্রাদেশপ্রমাণ পূর্বাভিমুখী রেখা –
ওঁ রেকেয়ং সোমদেবতাকা শুক্লবর্ণা।।৫।।
তদন্তর ঐ পাঁচটি রেখার মুলদেশ হইতে অঙ্গুষ্ঠ ও অনামিকা দ্বারা কিঞ্চিৎ কিঞ্চিৎ উৎকরস্বরূপ বালুকা লইয়া – ‘‘প্রজাপতিরঋষিরনুষ্টুপ্‌ছন্দোহগ্নির্দ্দেবতা উৎকরনিরসনে বিনিয়োগঃ। ওঁ নিরন্তঃ পরাবসুঃ’’ মন্ত্রে অরত্নিপ্রমাণ দূরস্থানে ঈশানকোনে প্রক্ষেপ করিয়া পূর্ব্বাস্থাপিত জলে রেখা অভ্যুক্ষণ করিবে। তৎপরে সন্নিধাপিত অগ্নি হইতে জলদিন্ধন (প্রজ্জ্বলিত কাষ্ঠ) লইয়া পাঠ করিবে।
প্রজাপতিরঋষিরনুষ্টুপ্‌ছন্দোহগ্নির্দ্দেবতা অগ্নিস্কারে বিনিয়োগঃ। ওঁ ক্রব্যাদমগ্নিং প্র হিণোমি দূরং যমরাজ্যং গচ্ছত বিপ্রবাহঃ।
গৃহীত অগ্নি হইতে ক্রব্যাদাংশ নৈর্দ্ধতকোণে প্রক্ষেপ করিয়া অবশিষ্ট প্রজ্জ্বলিত অগ্নি গ্রহণ করতঃ নিম্নোক্ত মন্ত্র পাঠ করিয়া স্থণ্ডিলের উপরি দক্ষিণাবর্ত্তে ভ্রামণপূর্ব্বক তৃতীয় রেখার উপরি আত্মাভিমুখ করিয়া স্থাপন করিবে। মন্ত্রঃ-
প্রজাপতিঋর্ষির্বৃহতীশ্ছন্দঃ প্রজাপতির্দ্দেবতা অগ্নিস্থাপনে বিনিয়োগঃ।। ওঁ ভুর্ভূবঃ স্বরোম্‌।
পরে পূর্বাস্থাপিত বামহস্ত তুলিয়া করযোড় করিয়া পাথ করিবে –
প্রজাপতিরঋষিরনুষ্টুপ্‌ছন্দোহগ্নির্দ্দেবতা অগ্নিস্থাপনে বিনিয়োগঃ।
ওঁ ইহইবায়মিতরো জাতবেদা দেবেভ্যো হব্যং বহতু প্রজানন।
ওঁ সর্ব্বত পাণিপাদান্ত সর্ব্বতোহক্ষিশিরোমুখঃ।
বিশ্বরূপো মহানগ্নিঃ প্রণীতঃ সর্ব্বকর্ম্মসু।।
ততঃ ওঁ পিঙ্গভ্রূশ্নশ্রুকেশাক্ষঃ পীনাঙ্গ জঠরোহরুণঃ।
ছাগস্থঃ সাক্ষসূত্রোহগ্নিং সপ্তার্চ্চিঃ শক্তিধারকঃ।
এই ধ্যান করিয়া “ওঁ অগ্নে ত্বং অমুকনামাসি” এই বলিয়া অগ্নির যথাবিধি নামকরণ করিয়া পূজা করিবে। অনন্তর প্রাদেশপ্রমাণ ঘৃতাক্ত সমিধ দ্বারা একটি আহুতি দিয়া ব্রহ্মস্থাপন করিবে। যথা-
পূর্ব্বস্থাপিত জলপাত্র হইতা জলধারা দিয়া অগ্নির উত্তর হইতে দক্ষিণে অর্থাৎ অগ্নিকোণে স্থণ্ডিল হইতে অরত্নিপ্রমাণ দূরদেশে পূর্ব্বমুখে জলধারা দিয়া কতিপয় কুশ তাহার উপরে পূর্ব্বাপ্রভাবে বিস্তৃত করিয়া ব্রহ্মার আসন করিবে। যজমান কর্তৃক বৃত ব্রাহ্মণ ব্রহ্মা হইলে, আসনের পূর্ব্বপার্শ্বে পশ্চিমাভিমুখী হইয়া দাঁড়াইয়া, বামহস্তের অনামিকা ও অঙ্গুষ্ঠ অঙ্গুলিরদ্বারা আস্তৃত কুশাসন হইতে একটি কুশা গ্রহণ করিয়া মন্ত্র পাঠ করিবে –
প্রজাপতিরঋষিরনুষ্টুপ্‌ছন্দোহগ্নির্দ্দেবতা তৃণনিরসনে বিনিয়োগঃ। ওঁ নিরস্তঃ পরাবসুঃ।
এই মন্ত্রে কুশা গাছটি দক্ষিণ-পশ্চিমকোণে প্রক্ষেপ করিয়া দক্ষিণহস্তদ্বারা জলস্পর্শপূর্ব্বক বামপদের উপরে দক্ষিণ পাদ রাখিয়া উত্তরমুখ হইয়া পূর্ব্ব স্থাপিত আসন জলদ্বারা অভ্যুক্ষণ করিয়া ব্রহ্মা গ্রহণ পূর্বক পাঠ করিবে –
প্রজাপতিরঋষিরনুষ্টুপ্‌ছন্দোহগ্নির্দ্দেবতা ব্রহ্মোপবেশনে বিনিয়োগঃ। ওঁ আবেসোঃ সদনে সাদ।
এই মন্ত্র উত্তরাভিমুখে ব্রহ্মস্থাপন করিয়া হোতা কতিপয় কুশা অমন্ত্রক ব্রহ্মাকে দিয়া জলদ্বারা অভ্যুক্ষণ করতঃ
“এতং কুশপত্রং ওঁ ব্রহ্মণে নমঃ। এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ ব্রহ্মণে নমঃ।”
এই ক্রমে অর্চ্চনা করিবে –
ব্রহ্মা "ওঁ সীদামি" বলিবেন। কুশময় ব্রাহ্মণপক্ষে হোতা নিজেই "সীদামি" বলিবেন।
অতঃপর হোতা পূর্ব্বমুখে আপন আসনে উপবিষ্ট হইয়া অযজ্ঞীয় ভাষাদি বলার প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ ব্রহ্মা ও হোতা উভয়েই পাঠ করিবেন –
প্রজাপতিরঋষির্গায়ত্রীচ্ছন্দো বিষ্ণুর্দ্দেবতা আজ্ঞীয়বাগ্‌বচননিমিত্ত জপে বিনিয়োগপঃ। ওঁ ইদং বিষ্ণুর্বিংক্রমে ত্রেধা নি দধে পদং সমূঢ়মস্যপাংসুলে।
কুশময় ব্রাহ্মণ হইলে, কৃতাকৃতাবেক্ষণাদি ব্রহ্মকার্য্যের কর্ত্তৃত্ব কর্ম্মকর্ত্তার আছে বলিয়া হোতাই সমস্ত মন্ত্র পাঠ করিবেন এবং অর্চ্চনার দ্রব্যাদি কুশময় ব্রাহ্মণতে প্রদান করিবেন। ঐ ব্রাহ্মণকে বিস্তৃত দর্ভময় আসনে পূর্ব্বাস্য করিয়া স্থাপন করিতে হয়।
যদি প্রকৃত কর্ম্মে চরুহোম থাকে তবে এই সময়ে চরু পাক করিতে হইবে। তজ্জন্য শূর্পে (কুলার) করিয়া আতপ তণ্ডুল লইয়া দক্ষিণপার্শ্বে একটি কুশার উপরি রাখিয়া, হোমীয় দেবতাগণের উদ্দেশ্যে তৎ তৎ নামে এক এক মুষ্টি চাউল গ্রহণ করিয়া বামহস্তধৃত ঊদুখলে মুষলদ্বারা আঘাত করিয়া সুপ্রক্ষালন ও প্রস্ফোটন করিবে। তদনন্তর চরুস্থালী লইয়া অগ্নির উপরি মাটির ঝিক্‌ বা খোঁটা পুতিয়া তাহাতে দুগ্ধের সহিত ঐ চাউল চড়াইয়া দিবে এবং কিঞ্চিৎ ঘৃত প্রক্ষেপ করিয়া জ্বাল দিবে। চরুর মধ্যে একটি উত্তরাগ্র কুশা রাখিয়া দিবে। অনন্তর মেক্ষণদ্বারা ঘুঁটিয়া পাক শেষ হইলে জলদ্বারা অভ্যুক্ষণ করিয়া, কিঞ্চিৎ ঘৃত প্রক্ষেপানন্তর অগ্নির উত্তরদিকে কয়েক গাছি কুশা পাতিয়া তাহার উপরি রাখিয়া দিবে। নামাইবার পূর্ব্বে ও পরে জলন্ত অগ্নির দ্বারা স্থালীমধ্য অবলোকন করিবে।
অনন্তর দক্ষিণ জানু ভূমিতে পাতিত করিয়া অধোমুখ দক্ষিণ হস্তের উপরি অধোমুখ বামহস্ত করিয়া হস্তদ্বয় ভূমিতে রাখিয়া ভূমিজপ মন্ত্র পাঠ করিবে –
পরমেষ্ঠী ঋষিরনুষ্টুপ্‌ছন্দোহগ্নির্দেদেবতা ভূমিজপে বিনিয়োগঃ।
ওঁ ইদং ভূমের্ভজামহ ইদং ভদ্রং সুমঙ্গলম্‌।
পরা সপত্নান বাধস্বান্যেষাং বিন্দতে ধনম্‌।।
এই মন্ত্র একবার পাঠ করিবে। রাত্রিতে কার্য্য হইলে "ধন" শব্দের স্থলে "বসু" পাঠ করিবে।
অনন্তর দক্ষিণহস্তে কতিপয় কুশা গ্রহণ করিয়া অগ্নির উত্তরদিক্‌ হইতে আরম্ভ করিয়া দক্ষিণাবর্ত্তে নিম্নোক্ত মন্ত্র তিনবার মার্জ্জন ও শোধন করিবে।
কৌৎসঋষির্জগতীচ্ছন্দোহগ্নির্দ্দেবতা পৃষ্ঠস্য ষড়হস্য ষষ্ঠেহহগ্নিমারুতে শস্তে পরিসমূহনে বিনিয়োগঃ।
ওঁ ইমং স্তোমমর্হতে জাতবেদসে রথমিব সং মহেমা মনীষয়া।
ভদ্রা হি নং প্রমতিরস্য সংসদ্যগ্নে সখ্যে মা রিষামা বহ্যং তব।।
ওঁ ভরামেধ্মং কৃণবামা হবীংষি তে চিতয়ন্তঃ পর্বণাপর্ব্বণা বয়ম্‌।
জীবাতবে প্রতরাং সাধয়া ধিয়োহগ্নে সখ্যে মা রিষামা বয়ং তব।।
ওঁ শিকেম ত্বাসমিধঃ সাধয়া ধিয়স্তে দেবাহবিরদন্ত্যাহুতম্‌।
ত্বমাদিতং আ বহ তান্‌ হ্যূশ্মশ্যগ্নে সখ্যে মা রিষামা বয়ং তব।।
অতঃপর সম্মার্জ্জনী কুশাগুলি ঈশানকোণে নিক্ষেপ করিয়া ছিন্নমূল সমানাগ্র, কুশা লইয়া অগ্নির পূর্ব্বোত্তরভাগে তিন গাছা কুশা রাখিয়া তাহার নীচে আবার ঐরূপ তিন গাছা কুশা রাখিয়া উপরিস্থ কুশার মুখদেশ আচ্ছাদন করিবে এবং পুনরায় আর তিন গাছা কুশা ঐরূপে উপরিস্থ কুশার মুল আচ্ছাদন করিয়া দিবে। তারপরে অগ্নিকোণের উর্দ্ধস্থান হইতে নৈরঋতকোণের নিম্নস্থান পর্য্যন্ত পূর্ব্বে যেরূপ দেওয়া হইয়াছে, সেই প্রকারে পূর্ব্বমুখী করিয়া কুশা প্রদান করিবে। তদন্তর নৈরঋতকোণের ঈষৎ উত্তরে ঊর্দ্ধ হইতে নিম্নক্রমে তিন তিনগাছা কুশা স্থাপন করিবে। অতঃপর অগ্নির উত্তরাংশে ঈশানকোণস্থিত কুশার মূল আচ্ছাদন করিয়া অধঃক্রমে বায়ুকোণ পর্য্যন্ত পূর্ব্বোক্ত প্রকারে কুশা সাজাইয়া দিবে। তদন্তর বিনা মন্ত্রে দশদিকে ঘৃতাক্ত স্বস্তিকদান (আতপ তণ্ডুল ক্ষেপণ) করিয়া "প্রজাপতি" দেবতাকে মনে মনে চিন্তা করিয়া কিঞ্ছিৎ উত্থিত হইয়া ঘৃতাক্ত বিংশতি কাষ্ঠিকা (হস্ত প্রমাণ সমিধ) অমন্ত্রক অগ্নিতে আহুতি দিবে।
অনন্তর আস্তৃত কুশা হইতে সাগ্র কুশাদ্বয় গ্রহণ করিয়া অপর একটি কুশদ্বারা পবিত্র বাঁধিয়া নিম্নলিখিত মন্ত্র পাঠপূর্ব্বক প্রাদেশপ্রমাণ রাখিয়া নখ ব্যতিরেকে ছেদন করিবে। মন্ত্রঃ-
প্রজাপতিরঋষিঃ পবিত্রে দেবতেপবিত্রচ্ছেদনে বিনিয়োগঃ। ওঁ পবিত্রে স্থো বৈষ্ণব্যৌ।
পরে ঐ পবিত্র বামহস্তের অঙ্গুষ্ঠ ও অনামিকা অঙ্গুলীদ্বারা ধারণ করিয়া নিম্নলিখিত মন্ত্রপাঠপুর্ব্বক জলদ্বারা অভ্যূক্ষণ করিয়া ঘৃতের পাত্রের উত্তরাগ্র করিয়া স্থাপন করিবে। মন্ত্রঃ-
প্রজাপতিরঋষি পবিত্রে দেবতে পবিত্রমার্জ্জনে বিনিয়োগঃ। ওঁ বিষ্ণোর্ম্মনসা পূতে স্থঃ।
অনন্তর সেই ঘৃতপাত্রের উপরি হোমার্থ ঘৃত রাখিয়া, পবিত্রের অগ্রভাগ দক্ষিণহস্তের অনামিকা ও অঙ্গুষ্ঠ দিয়া ধরিবে ও পশ্চাদ্ভাগে বামহস্তের অঙ্গুষ্ঠ ও অনামিকা দ্বারা পাত্রের উপরি দক্ষিণহস্ত অধোমুখ করিয়া বামহস্ত দক্ষিণহস্তের উপর দিয়া অধোমুখ করিয়া পাঠ করিবে, -
প্রজাপতিরঋষির্গায়ত্রীচ্ছন্দঃ আজ্যং দেবতা আজ্যোৎপবনে বিনিয়োগঃ।
ওঁ দেবস্ত্বা সবিতোৎপুনাত্বচ্ছিদ্রেণ বসোঃ সূর্য্যস্য রশ্মিভিঃ স্বাহা।।
পবিত্রের মধ্যভাগ দ্বারা ঘৃত আলোড়ন করিয়া ঐরূপ ভাবে পবিত্রদ্বারা ঘৃত অগ্নিতে আহুতি দিবে এবং আরও দুইবার অমন্ত্রক ঐরূপ ঘৃত অগ্নিতে আহুতি দিবে। তদনন্তর পবিত্র গাছটি বামহস্তে লইয়া দক্ষিণহস্ত্রদ্বারা তাহাতে জলের ছিটা দিবে এবং তৎপরে ওই পবিত্র দক্ষিণ হস্তে লইয়া অগ্নিতে নিক্ষেপ করিবে। তৎপরে ঘৃতপাত্রের তলদেশে জলদ্বারা মার্জ্জনা করিয়া অগ্নিস্পর্শপূর্ব্বক অগ্নির উত্তরদিকে রাখিবে – এইরূপে তিনবার করিয়া আজ্যসংস্কার করিবে। স্রক্‌স্রুব প্রভৃতিও ওইরূপে সংস্কার করিবে। চরুহোম পক্ষে অগ্নির পশ্চিমভাগে চরু আনায়ন পূর্ব্বক কতিপয় আস্তৃত কুশোপরি পূর্ব্বদিকে আজ্য ও পশ্চাদ্ভাগে চরু স্থাপন করিবে।
অনন্তর দক্ষিণজানু ভূমিতে পাতিত করিয়া বামজানু উন্নত রাখিয়া অগ্নির চারিদিক্‌ ক্রমে উদকাঞ্জলি সেক করিবে। প্রথমে অগ্নির দক্ষিণভাগের নৈরঋতকোণ হইতে অগ্নিকোণ পর্য্যন্ত গৃহীত জলাজলির ধারা দিবে এবং উদকাঞ্জলি গ্রহণ করিয়া পাঠ করিবে –
প্রজাপতিরঋষিরদিতির্দ্দেবতা উদকাজলিসেকে বিনিয়োগঃ। ওঁ আদিতে অনুমন্যস্ব।।
পুনরায় ঐরূপ জলাঞ্জলি লইয়া নিম্নোক্ত মন্ত্র পাঠপুর্ব্বক অগ্নির পশ্চিমে নৈরঋতকোণ হইতে বায়ুকোণ পর্য্যন্ত জলধারা দিবে। মন্ত্রঃ-
প্রজাপতিরঋষিরনুমতির্দেবতা উদাকাঞ্জালসেকে বিনিয়োগঃ। অনুমতে অনুমন্যস্ব।।
পুনরপি জলাঞ্জলি লইয়া নিম্নোক্ত মন্ত্র পাঠপূর্ব্বক অগ্নির উত্তরভাগে বায়ুকোণ হইতে ঈশানকোন পর্য্যন্ত জলধারা দিবে। মন্ত্রঃ-
প্রজাপতিরঋষিঃ সরস্বতীদেবতা উদকাঞ্জলিসেকে বিনিয়োগঃ। ওঁ সরস্বতানুমন্যস্ব।
পুনরপি জলাঞ্জলি গ্রহণ করতঃ নিম্নোক্ত মন্ত্র পাঠপুর্ব্বক দক্ষিণাবর্ত্তে জলধারায় অগ্নিকে বেষ্টন করিবে। মন্ত্রঃ-
প্রজাপতিরঋষি সবিতা দেবতা অগ্নিপর্য্যুক্ষণে বিনিয়োগঃ।
ওঁ দেব সবিতঃ প্রসুব যজ্ঞং প্রসুব যজ্ঞপতিং ভগায়।
দিব্যো গন্ধর্ব্বঃ কেতপুঃ পুনাতু বাচসপতির্বাচোনঃ স্বদতু।।
নিম্নলিখিত মন্ত্রাদি (কামাকর্ম্মাদির (প্রতিষ্ঠাদি কার্য্য কাম্যকর্ম্ম, সংস্কারাদি কার্য্য কাম্য নহে।) জন্য কুশণ্ডিকা হইলে) হাতযোড় করিয়া পাঠ করিবে। নচেৎ পাঠ করিতে হইবে না। মন্ত্রঃ-
ওঁ তপশ্চ তেজশ্চ শ্রদ্ধা হ্রীশ্চ চ সত্যঞ্চ ক্রোধশ্চ তায়গশ্চ ধৃতিশ্চ ধর্ম্মশ্চ সত্যঞ্চ বাক্‌ চ মনশ্চ আত্মা চ ব্রহ্ম চ তানি প্রপদ্যে তানি মামবন্তু।
অনন্তর দক্ষিণজানু তুলিয়া, উপরি দক্ষিণ হস্ত এবং নিম্নে বামুহস্ত রাখিয়া ফল, পুস্প ও কুশা মুট করিয়া ধরিয়া বিরূপাক্ষ জপ করিবে। মন্ত্রঃ-
পরমেষ্ঠী ঋষী রুদ্ররূপোহগ্নির্দ্দেবতা বিরূপাক্ষজপে বিনিয়োগঃ।
ওঁ ভুর্ভুবঃ স্বরোম্‌ মহান্তমাত্মানং প্রপদ্যে বিরূপাক্ষোহসি দন্তাজিস্তস্য তে শয্যা পর্ণে গৃহে অন্তরীক্ষে বিমিতং হিরণ্যয়ং তদ্দেবানাং হ্রিদয়ান্যয়স্ময়ে কুম্ভেঅন্তঃ সন্নিহিতানি তানি বলভূচ্চ বলসাচ্চ রক্ষতোহপ্রমণী অনিমিষতং সত্যং যত্তে দ্বাদশ পুত্রাস্তে ত্বা সংবৎসরে কামপ্রেণ যজ্ঞেন যাজয়িত্বা ব্রাহ্মণো বৈ ব্রাহ্মণমুপধাবত্যুপত্বা ধাবামি জপন্তং মা মা প্রতিজাপীর্জ্জুহনন্তং মা মা প্রতিহৈষীঃ কুর্বন্তং মা মা প্রতিকার্ষীস্ত্বাং প্রপদ্যে ত্বয়া প্রসূত ইদং কর্ম্ম করিষ্যামি তন্মে রাধ্যতা; তন্মে সমৃধ্যতাং তন্মে উপপদ্যতাং সমুদ্রো মা বিশ্বব্যচা ব্রহ্মানুজানাতু তুথো মা বিশ্বদেবা ব্রহ্মণঃ পুত্রোহনুজানাতু শাত্রো মা প্রচেতা মৈত্রাবরুণোহনুজানাতু তস্মৈ বিরুপাক্ষায়া দন্তাজয়ে সমুদ্রায় বিশ্বব্যচনে তুথায় বিশ্ববেদসে শাত্রায় প্রচেতসে সহস্রাক্ষায় ব্রহ্মণঃ পুত্রায় নমঃ।

জপানন্তর গৃহীত কুশা পূর্ব্বোত্তরদিকে নিক্ষেপ করতঃ ফল পুস্প ব্রহ্মাকে দিবে। ইতি সামান্য কুশণ্ডিকা।